বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষা, শুদ্ধ চর্চা ও সর্বস্তরে ব্যবহারের আহ্বান জানিয়ে ভাষা আন্দোলনের চেতনা পুনর্জাগরণের বার্তা।

অলোক আচার্য
শিক্ষক, সাংবাদিক ও লেখক
পৃথিবীর প্রতিটি ভাষারই একটি নিজস্ব স্বকীয়তা রয়েছে। ভাষার নিজস্ব প্রাণ নেই, তবে ভাষাই মানুষের প্রাণের প্রকাশ। ভাষাহীন মানুষ বোধহীন প্রাণীর ন্যায়। মানুষের পরিচয়, প্রকাশ ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় ভাষার ভূমিকা অপরিসীম। আমাদের সেই মর্যাদার ভাষার নাম বাংলা।
পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকদের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে, রাজপথে গুলিবিদ্ধ হয়ে শহিদদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে বাংলাকে মাতৃভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হয়েছে। এই অর্জন আমাদের ভাষার প্রতি দায়বদ্ধতাকে আরও দৃঢ় করে।
পৃথিবীতে যে হাজার হাজার ভাষা রয়েছে, তার মধ্যে বাংলার অবস্থান অত্যন্ত শক্তিশালী। তাই বাংলার শুদ্ধ চর্চা অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। ভুলভাল ভাষা ব্যবহার, বানানে অবহেলা এবং অপ্রয়োজনীয় বিদেশি ভাষার মিশ্রণ— সব মিলিয়ে আমরা নিজেরাই বাংলা ভাষার মর্যাদা ক্ষুণ্ন করছি।
সাত দশকেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও আজও আমরা সর্বস্তরে বাংলা ভাষার ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারিনি। এই ব্যর্থতা আমাদের, এই দায়ও আমাদেরই। এ দায় থেকে মুক্ত হতে হলে নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলা ভাষাকে মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।
আজ থেকে হাজার বছর পর আমরা বাংলাকে কেমন দেখতে চাই— তার ভিত্তি নির্মাণ শুরু করতে হবে এখন থেকেই। আর এই চেতনা জাগ্রত রাখার জন্যই বাংলা ভাষা দিবস পালন বিশেষভাবে প্রয়োজনীয়।
— সমাপ্ত —
লেখক পরিচিতি:
অলোক আচার্য (জন্ম: ১৯৮৫) বাংলাদেশের একজন শিক্ষক, সাংবাদিক ও কথাসাহিত্যিক। পাবনা জেলার বেড়া উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি নিয়মিত জাতীয় ও অনলাইন গণমাধ্যমে সাহিত্য ও সমসাময়িক বিষয়ে লেখালেখি করেন। তাঁর প্রথম গল্পগ্রন্থ ‘ছুঁয়ে দেখা মেঘ’। কিশোর সায়েন্স ফিকশন ও রহস্যধর্মী লেখার জন্য তিনি বিশেষভাবে পরিচিত; উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘স্কুলে এলিয়েন’ ও ‘ফেলুদার টাইম মেশিন’। শিক্ষকতার পাশাপাশি স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত থেকে সাহিত্যচর্চা অব্যাহত রেখেছেন।
ইমেইল: sopnil.roy@gmail.com
COMMENTS